Maladjusted Behaviour: Phobia Practicum | Guidance and Counselling | Course 1.4.11

0
This post covers Maladjusted Behaviour: Phobia for Guidance and Counselling Practicum (Course 1.4.11). It includes the meaning of phobia, characteristics of maladjustment, classification, causes, symptoms, remedies, a detailed case study, advantages and limitations of case study, and practical notes in simple Bengali. This resource is useful for B.Ed 4th Semester, practicum files, assignments, viva, and university examination preparation.


Maladjusted Behaviour: Phobia


Illustration of a worried woman surrounded by symbols of common phobias: fear, crowds, flying, snakes, and closed spaces.


ভূমিকা (Introduction)


একজন ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ এবং সামগ্রিকভাবে ব্যাখ্যা করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত রকমের তথ্য যেমন সামাজিক, শারীরিক জীবনমূলক, পরিবেশগত বৃত্তিমূলক ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করাকে কেস স্টাডি বা ব্যক্তি অধ্যয়ন বলে। সমগ্র ব্যক্তিকে জানতে হলে এটি হল তথ্যের সমগ্র উৎস কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি সম্পর্কিত সমগ্র তথ্য সংগ্রহ করা।

মনস্তাত্ত্বিক, মনোচিকিৎসক, সমাজসংস্কারকগণ সাধারণত কেস স্টাডি ব্যবহার করে থাকলে, শিক্ষাক্ষেত্রে -এর ব্যবহার কদাচিৎ হয়, কারণ শিক্ষক উপদেষ্টা এবং সহশিক্ষকের সময়-স্বল্পতার জন্য এটা সম্ভব নয়।

ব্যক্তির অপসংগতিমূলক আচরণের অন্যতম উপাদান হল ব্যক্তির মনে অহেতুক ভয় বা আতঙ্ক যা তাকে সঠিক অভিয়োজনে ব্যর্থ করে। মনের মধ্যে তীব্র ভয় বা অতিমাত্রায় হীনমন্যতার দরুন সুষ্ট এক অদ্ভুতভাবে ব্যক্তিকে ফোবিয়ার সম্মুখীন করে তোলেন, এই ঘটনা কেস স্টাডির দরুন বোঝা যায়।


অপসংগতি Maladjustment


সংগতিবিধানের বিপরীত প্রক্রিয়া হল অপসংগতি। অর্থাৎ পরিবেশের সাথে সংগতিবিধানের অক্ষমতাকে অপসংগতি হিসাবে গন্য করা হয়। অপসংগতি হল এমন একটি অবস্থা যার দ্বারা অনুভূত হয় যে ব্যক্তির চাহিদাগুলি চরিতার্থ হয়নি, যার ফলস্বরূপ ব্যক্তি নিজের সঙ্গে তথা পরিবেশের সাথে অভিযোজনে সক্ষম হয় না।

অপসংগতির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:- 

অপসংগতির বৈশিষ্ট্যগুলি হল নিম্নরূপ—

i) নিয়মকানুন বিধি নিষেধ ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করা। 
ii) নিজের দোষ অন্যের উপর চাপিয়ে দেবার প্রবণতা। 
iii) এরা বদমেজাজী হয়। 
iv) সামান্য কারনে ক্রোধ, বিরক্তি ও ঘৃণাপ্রকাশ করে। 
v) ইচ্ছাকৃতভাবে অপরকে বিরক্ত করে। 
vi) নিজেও সহজে বিরক্ত হয়।

অপসংগতির কারন:- 


আদিম প্রবৃত্তি থেকে ব্যক্তির মৌলিক চাহিদার সৃষ্টি হয়। মৌলিক চাহিদা পূরিত হলে ব্যক্তির কোন সমস্যা হয় না। মৌলিক চাহিদার অতৃপ্তি ব্যক্তির আচরণের মধ্যে অপসংগতির সৃষ্টি করে, কিছু মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন এর জন্য জন্মগত কারন কিছুটা দায়ী।

সমাজে অপসংগতিমূলক আচরণ:- অপসংগতির মূল আচরণের জন্য সমাজে যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। এক্ষেত্রে যেসব আচরণগুলি লক্ষ্য করা যায়, তা হল সমাজে শিশুরা কোন অসামাজিক কাজ দেখলে তার মধ্যে ওই ধরনের কাজ করার প্রবণতা জন্মায়। যেমন- মিথ্যাবলা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, খাবার নষ্ট করা, রাস্তায় বয়স্কদের বিরক্ত করা ইত্যাদি।


অস্বাভাবিক আচরণের প্রতিকারসমূহ (Remedies of Maladjusted Behaviour)


অপসংগতির প্রতিকারসমূহ আলোচনা করা হল —

i) প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় শরীরচর্চার মধ্য দিয়ে বিশেষভাবে শারীরিক বিকাশ সংক্রান্ত বাধাগুলি অপসারিত করা। 
ii) অহেতু ও স্বাভাবিকভাবে বয়ঃসন্ধিক্ষণের পরিবর্তন তথা চাহিদাগুলি মেনে নেওয়ার চেষ্টা। 
iii) গৃহের ত্রুটিপূর্ণ পরিবেশ মুক্ত করে পারিপার্শ্বিক সুসম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে শান্তি বজায় রাখলে তার ইতিবাচক প্রভাব শিশুর মধ্যে স্বভাবতই সঞ্চারিত হয় তার মধ্যে অস্বাভাবিকতা দানা বাঁধে না। 
iv) বিদ্যালয়ে সুস্থ ও ভারসাম্যযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা। 
v) অকারন শাসনের আধিক্য সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে বিশেষভাবে বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সুসম্পর্ক বজায় রাখা। 
vi) বস্তুতপক্ষে কৈশোরকালে সামাজিক স্বীকৃতিলাভের চাহিদা পরিতৃপ্ত হলে তবেই অপসংগতি রোধ করা সম্ভব।


ফোবিয়া সম্পর্কে কেস স্টাডি (Case Study : Discussing with Phobia)


কৈশোরে অপসংগতিমূলক আচরণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়। এই অপসংগতিমূলক আচরণের মধ্যে কিছু লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায়, যেমন স্কুল ছুট, মিথ্যে কথা বলা, চুরি করা, দুশ্চিন্তা ইত্যাদি। প্রত্যেকটি লক্ষণ ব্যক্তির মধ্যে আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য কেস স্টাডি করা হয়। এই সব অপসংগতি মূলক আচরণগুলির অন্যতম হল ফোবিয়া।

ফোবিয়ার অর্থ:- গ্রিক শব্দ Phobas থেকে Phobia শব্দটি এসেছে। যার অর্থ হল ভয় বা আতঙ্ক। Phobia দুশ্চিন্তা সংক্রান্ত মানসিক বিশৃঙ্খলা যার দ্বারা সর্বাপেক্ষা অধিক ব্যক্তি আক্রান্ত হয়। প্রকৃত বিপদের সম্ভাবনা নেই, অথচ বিশেষ বস্তু সম্মুখীন হলেই ব্যক্তি তীব্র ভয়ে ভীত হয়। ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতিকারক যা স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দান করে। এক ধরনের অজানা আতঙ্ক ব্যক্তিকে সর্বদা তাড়া করে বেড়ায়। একেই ফোবিয়া বলে। এই ধরনের একটি উল্লেখযোগ্য ফোবিয়া হল ব্যক্তির মৃত্যুভয়।

ফোবিয়ার লক্ষণ:- ফোবিয়ার লক্ষণ হল আতঙ্কে আক্রান্ত হবার আতঙ্ক। আক্রান্ত ব্যক্তির আতঙ্ক প্রকৃত বিপদের থেকে অধিক। এর কতগুলি শারীরিক লক্ষণ দেখা যায়, যেমন— দ্রুত হৃদস্পন্দন, নিশ্বাসে-প্রশ্বাসে কষ্ট, কম্পন প্রভৃতি।

ফোবিয়ার নিয়ন্ত্রণ:- যে কোনো ভয় ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করে তোলে, ব্যক্তির স্বাভাবিক বিকাশে বাধা দেয়। তাই ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করা খুবই প্রয়োজন। নিম্নলিখিত কতগুলি পদ্ধতির মাধ্যমে ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।


ফোবিয়ার শ্রেণীবিভাগ (Classification of Phobia)


ফোবিয়াকে প্রধানত ২টি শ্রেণীতে ভাগ করা যায় যথা— ক) সরল ফোবিয়া খ) জটিল ফোবিয়া

ক) সরল ফোবিয়া : ফোবিয়া যখন একটি নির্দিষ্ট বস্তু, পরিস্থিতি বা কাজের প্রেক্ষিতে দেখা যায়, তখন তাকে সরল ফোবিয়া বলে। যেমন- পোকামাকড়, সাপ, বদ্ধস্থান প্রভৃতির ভয়।

খ) জটিল ফোবিয়া : মুক্ত স্থান থেকে ভয় হল জটিল ফোবিয়ার উদাহরণ। এখানে ভয়ের উৎস নানারকম হতে পারে, যেমন ভিড়ে ভয়, ট্রেনে ও বাসে চড়ার ভয়।

সামাজিক ভয় জটিল ফোবিয়ার আরেকটি উদাহরণ। সামাজিক ফোবিয়া বলতে বোঝায় - সামাজিক অনুষ্ঠান - বিবাহ, জনসমক্ষে বক্তৃতা রাখা ইত্যাদি। যারা এই ধরনের ফোবিয়ার শিকার তারা মনে করেন জনসমক্ষে তারা অপমানিত হতে পারেন।

ফোবিয়ার কারণসমূহ (Causes of Phobia)


✪ ফোবিয়া আক্রান্ত পরিবারের সদস্য ফোবিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন।
✪ ব্যক্তি সংগতি বিধানে অক্ষম হলে ফোবিয়ার সৃষ্টি হয়।
✪ কর্মক্ষেত্রে সফল না হলে ফোবিয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
✪ আত্ম বিশ্বাসের অভাব।
✪ শৈশবে কোনো বস্তুর দ্বারা দুর্ঘটনাগ্রস্থ হয়ে ভয় পাওয়া।
✪ প্রত্যাশার অধিক পরিমাণ চাপ।
✪ পিতামাতা শিশুকে যথেষ্ট সময় না দিলে একাকীত্বও ফোবিয়ার কারণ।

ফোবিয়ার ফলসমূহ Outcomes of Phobia


✪ অভিযোজনে চূড়ান্ত অক্ষমতা।
✪ কর্মক্ষেত্রে, ব্যক্তি জীবনে অসফলতা।
✪ আগামী বিপদ সম্পর্কে কিছুটা হলেও সতর্ক করে।
✪ অহেতুক ভয়ের দ্বারাই ব্যক্তি সামাজিক অনুশাসনকে মান্যতা দিয়ে থাকে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই।


কেস স্টাডি (Case Study)


ব্যক্তির সামগ্রিক অধ্যয়নের জন্য প্রয়োজন উক্ত ব্যক্তির সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য, যা বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে সংগৃহীত করা যায়। যেমন- সাক্ষাৎকার, পর্যবেক্ষণ, প্রশ্নাবলি। ব্যক্তির অতীত এবং বর্তমানের সকল ব্যক্তিগত ও পারিপার্শ্বিক তথ্য মিলিত করে তাকে পর্যালোচনা করা হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তির সামাজিক, ব্যক্তিগত, শারীরিক, পরিবেশগত সকল তথ্যই সংগৃহীত করা হয় এই পদ্ধতির মাধ্যমে। নানা কৌশলের মাধ্যমে যেহেতু ব্যক্তির সামগ্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়, তাই সেই তথ্যের ভিত্তিতে ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণ ও যথাযথ ও নিরপেক্ষভাবে করা হয়। খণ্ড বা বিশেষ দর্শন নয়, ব্যক্তির সামগ্রিক পর্যবেক্ষণই কেস স্টাডির অন্যতম উদ্দেশ্য। এই পদ্ধতি সময় ও খরচসাপেক্ষ কিন্তু বিচারকরণ যথোপযুক্ত হয়।

সংগৃহীত তথ্যসমূহ


i) ব্যক্তির প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সংগৃহীত হয়। 
ii) আর্থ-সামাজিক অবস্থার খবর নেওয়া হয়। 
iii) পরিবারের ও পারিবারিক সম্পর্কের খবর নেওয়া হয়। 
iv) প্রাক্ষোভিক সংগতিবিধান সম্পর্কিত তথ্যাবলি নেওয়া হয়। 
v) পিতা-মাতার সম্পর্ক, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কীরূপ ইত্যাদি খবর নেওয়া হয়। 
vi) ব্যক্তির মানসিক প্রবণতা কীরূপ তা যাচাই করা হয়। 
vii) সামাজিক বিকাশের স্বরূপ যাচাই করা হয়। 
viii) প্রাক্ষোভিক বিকাশের ধারা সম্পর্কিত তথ্য নেওয়া হয়।


কেস স্টাডি কেন করা হয়? (Why Case Study is important?)


একটি উত্তম কেস স্টাডি পরামর্শদাতাকে নিম্নলিখিতভাবে সাহায্য করে— 
i) শিক্ষার্থীর প্রবণতা, আগ্রহ, অভ্যন্তরীণ চাহিদাসম্পন্ন তথ্য পাওয়া। 
ii) শিক্ষার্থীর পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব-এর সঙ্গে সম্পর্কের চিত্রকে কেস স্টাডি থেকে পাওয়া যায়। 
iii) শিক্ষার্থীর জীবন সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা যায়। 
iv) শিক্ষার্থীর আচরণগত ত্রুটি অন্যান্য সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হওয়া। 
v) শিক্ষার্থী হীনমন্যতায় ভুগছে কি না তা জানা যায়। 
vi) বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা যায়। এর ফলে অভিজ্ঞ পরামর্শদাতা, শিক্ষার্থীর সামাজিক চরিত্র মূল্যায়ন করতে পারে, এটি শিক্ষা ও বৃত্তি পরিকল্পনার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশবিশেষ।

বৈশিষ্ট্যসমূহ :-


ক) একক পরিচালনা : এই পদ্ধতিটি এককভাবে কোনো পরিবার বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে থাকেন।
খ) বিস্তারিত পর্যালোচনা : এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলি গভীর, এখানে কোনো একটি সমস্যাকে ভিত্তি করে, তার ওপর প্রয়োজনীয় তথ্যগুলি সংগৃহীত হয়ে থাকে।
গ) সমগ্র একক পরিচালনা : এককের সামগ্রিক দিকের পর্যালোচনা ব্যতীত কোনো ভাবেই ফলাফল পর্যালোচনা করা সম্ভব নয়। বস্তুত কেস স্টাডির ভিত্তি হল ব্যক্তি বা পরিবার জীবনে পূর্ণ পর্যালোচনা। এখানে এককগুলিকে একটি গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসাবে গণ্য করা হয়।


কেস স্টাডির বিভিন্ন স্তর (Phases of Case Study)


কেস স্টাডিতে নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরন করা হয়।

বর্তমান অবস্থা নির্ণয় :- এই স্তরে ব্যক্তির বিভিন্ন মানসিক ক্ষমতা, আগ্রহ ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন ধরনের আদর্শায়িত অভীক্ষা ব্যবহার করা হয়। যেমন কোনো শিক্ষার্থীর অপরাধ প্রবণতা সম্বন্ধে অনুসন্ধান করা হচ্ছে— এক্ষেত্রে প্রথম ধাপ হল শিক্ষার্থীর বর্তমান অসংলগ্ন আচরণ ও মানসিক আচরণ এবং অন্যান্য মানসিক ক্ষমতা নির্ণয় করা।

প্রাক-কল্প গঠন :- এই স্তরে ব্যক্তি বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অতীত সম্বন্ধে রেকর্ড থেকে ব্যক্তির অতীত আচরণ সম্বন্ধে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। যেখান থেকে বর্তমান আচরণের কারণ থেকে একটা অনুমান গঠন করা যায়। শিক্ষার্থীর অপরাধ প্রবণতার কারণ সম্পর্কে কতগুলি প্রাককল্প গঠন করা যেতে পারে। এই প্রাক-কল্প গঠনের জন্য অনুরূপ কোন গবেষণার সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

প্রাক-কল্প যাচাইকরণ :- যাচাইকরণের জন্য গবেষক বিভিন্ন তথ্যের সাহায্য নেবেন। এই ধরনের তথ্য সাধারণত শিক্ষক, অভিভাবক, বন্ধু, ভাই-বোন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে সংগৃহীত হয়, এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত দিনলিপি ব্যবহার করা হয়।

প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহন : মূল কারণটি চিহ্নিত করার পর ব্যক্তিকে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে ঔষধপত্র ব্যবহার করা যেতে পারে।

অনুসরণ : এটি কেস স্টাডির সর্বশেষ স্তর। এই স্তরে ব্যক্তির উপর পরিচালিত চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা বিচার করা হয়। যদি দেখা যায় যে শিক্ষার্থীর অপরাধপ্রবণ আচরণগুলির মাত্রা কমেছে, তাহলে বুঝতে হবে যে চিকিৎসা পদ্ধতি সঠিক এবং তা ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা যেতে পারে।

কেস স্টাডির সুবিধা


❑ কেস স্টাডিতে গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হয় বলে ব্যক্তিকে সামগ্রিকভাবে বিচার করা সম্ভব হয়।
❑ কেস স্টাডিতে যেহেতু সকল তথ্যের নিরিখে বিচার সম্পন্ন হয়, তাই প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করা সহজ।
❑ কেস স্টাডির কৌশল গবেষককে মানব আচরণ সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করবে।

কেস স্টাডির অসুবিধাসমূহ


❑ এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া।
❑ সময় বেশি লাগে, তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব নয়।
❑ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের অভাব ঘটলে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়।
❑ ব্যক্তিগত অভিমত প্রদর্শিত হলে এর কার্যকারিতা বিনষ্ট হয়।


Case Study : 1


Name : ঋতমা নন্দী
Age : 12 years
Sex : Female

Address : গ্রাম:- পাণ্ডুগ্রাম, পো:- মাধবপুর, থানা-আরামবাগ, জেলা- হুগলী
History of present illness : কেউ মারা গেলে ভয়ে ঘর থেকে বেরোতে পারে না।
Past psychiatric illness : অন্ধকারে ভয় ছিল।
Family History : বাড়ির প্রায় সকলেই এই সম্বন্ধে জ্ঞাত। কেন বা কী থেকে এই ভয়ের সূচনা তা জানা যায় না।
Mental Status :
a) Appearance & Behaviour : স্বাভাবিক
b) Mood : ভালো
c) Speech : স্বাভাবিক
d) Memory : ভালো
e) Concentration : মনোযোগ আছে
f) Intelligence & Insight : জানা যায় না
g) Judgment : বয়স কম তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষম।
h) Environmental Stress : প্রায় নেই
i) Childhood factor : ✕
j) School History : বন্ধুদের সাথে মেলামেশা সহজ।

Diagnosis : সম্ভবত বয়স্কদের থেকে ভূতের গল্প শুনে ও পরবর্তীকালে কারো মৃত্যুতে এই ভয় দৃঢ় হয়।


উপসংহার


বিদ্যালয় তথা সমাজ থেকে অপসংগতিমূলক আচরণ একেবারে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তবুও আমাদের চেষ্টা করে যেতে হবে যাতে শিক্ষার্থীদের অপসংগতিমূলক আচরণ কিছুটা হলেও কমে। তবে জীবনের যেকোনো সমস্যা যতই দুর্বিষহ হোক না কেন, পরিবার, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা থাকলে সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। বিষয়টি যদি অহেতুক ভয়ের হয় তবে শিক্ষক-শিক্ষিকা, বন্ধু-বান্ধবের সাহচর্য ও সঠিক পথপ্রদর্শনে এটি দূর করা সম্ভব।

সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসা ব্যক্তিকে ফোবিয়া থেকে মুক্তি দিতে পারে।

Post a Comment

0Comments

Please Select Embedded Mode To show the Comment System.*

To Top