B.Ed 4th Semester Practicum – To Undertake Study of Sex Ratio and Analysis of its State Wise (Bengali Medium) is provided in this post. It includes Introduction, Sex Ratio, Population and Environment Education, Importance of Sex Ratio, Programme Implementation, State-wise Analysis, Conclusion, and Bibliography. This Practicum is prepared according to the latest BSAEU syllabus and is useful for Practicum File, Viva, Assignment, and Semester Examination.
To Undertake Study of Sex Ratio and Analysis of its State Wise
ভূমিকা
কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রজাতির সংখ্যাকেই বলা হয় Population। আমরা একটি নির্দিষ্ট সময়ান্তরে আদম শুমারির মাধ্যমে আমাদের দেশের মনুষ্য প্রজাতির সংখ্যা অর্থাৎ জনসংখ্যা সম্বন্ধে বিভিন্ন তথ্যসংগ্রহ করে থাকি। লিঙ্গ অনুপাত, সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক অবস্থা, পরিবার পরিকল্পনার ব্যবস্থা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় সম্বন্ধে আমরা ওয়াকিবহাল হই। এইসব তথ্য আহরণের মাধ্যমে আমরা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্বন্ধে তুল্যমূল্য বিচার করে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা নির্ণয় করতে পারি। একটি সমাজের সঠিক সৃজনের জন্য লিঙ্গ অনুপাতে ভারসাম্য এক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়। অন্যথায় সৃষ্টি অসাম্য এক বিশৃঙ্খলতার সৃষ্টি করবে। লিঙ্গ অনুপাতে সাম্য না থাকলে সৃষ্টির নিয়মে বিঘ্ন ঘটবে।
লিঙ্গ অনুপাত (Sex ratio)
একটি নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট স্থানে প্রতি এক হাজার পুরুষের সংখ্যার অনুপাতে যত সংখ্যক নারী থাকে—তাকেই সেই স্থানের জনসংখ্যার লিঙ্গ অনুপাত বলে। তবে বর্তমানে নারী ও পুরুষ ব্যতিরেকে সমাজে তৃতীয় লিঙ্গ ও রূপান্তরকামীরা লিঙ্গ পরিচিতি ক্ষেত্রে সরকারি মান্যতা পাওয়ায় তাদের সংখ্যাও লিঙ্গ অনুপাতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
লিঙ্গ অনুপাতের হিসেবে আমাদের সমাজে বিভিন্ন লিঙ্গের ব্যক্তিদের সংখ্যা সম্বন্ধে আমাদের জ্ঞাতকরণের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের রূপরেখা নির্ণয়ে সাহায্য করে থাকে। সকলের চাহিদার ভিন্নতা অনুসারে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হয়ে থাকে এবং সমস্ত রকম প্রতিকূলতা থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করা হয়।
জনসংখ্যা ও পরিবেশ শিক্ষা
কোনো জীবের পারিপার্শ্বিক সমস্ত জৈব এবং অজৈব উপাদানের সমন্বয়ে পরিবেশের সৃষ্টি যা তার বিকাশকে প্রভাবিত করে। আমরা আমাদের সমস্ত চাহিদা পূরণ এই প্রকৃতির থেকেই করে থাকি। আমরা আমাদের প্রয়োজন মতো প্রতিনিয়ত প্রকৃতিকে ব্যবহার করে চলেছি। প্রকৃতির সম্পদ যে পরিমাণে আমরা গ্রহণ করছি, ফিরিয়ে দিচ্ছি তার থেকে অনেক কম। ফলে দিনে দিনে ক্রমশ সম্পদ নিঃশেষিত হয়ে চলেছে। সমগ্র পৃথিবীব্যাপী জনবিস্ফোরণ এরজন্য অনেকাংশেই দায়ী। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাপনার ত্রুটি বা ব্যবস্থাপনা থাকলেও জনসচেতনতার অভাব, বর্তমান আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৌলতে জন্মহার বৃদ্ধি ও মৃত্যুহার হ্রাসের ফলে জনসংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। অথচ প্রকৃতির সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধিশীল নয়। ফলে এই সম্পদ কুক্ষিগত করার জন্য চলেছে লড়াই। প্রকৃতির সম্পদ হচ্ছে নিঃশেষিত। আমরা আমাদের প্রয়োজনে যতটা সম্পদ ব্যবহার করি, অপচয় করি তার থেকে অনেক বেশি। ফলে প্রকৃতিও শোধ নিতে ছাড়ছে না। মাঝেমধ্যেই ঘটছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। আমরা হচ্ছি বিপর্যস্ত। ফলে আমাদের সচেতনতার সময় এসেছে। সময় এসেছে প্রকৃতিকে রক্ষা করার। এরজন্য প্রকৃতি যে যে কারণে দূষিত হচ্ছে সেইসব কারণগুলিকে অপসারিত করতে হবে। পরিবেশকে দূষণমুক্ত করে সুন্দর করে তোলার প্রয়াস গ্রহণ করতে হবে। তবে শুধুমাত্র এই সকল প্রয়াসই পরিবেশ আনা সম্ভব নয়। এরজন্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা না হলে পরিবেশের সজীবতা গণমাধ্যমের দ্বারা প্রচার করা প্রয়োজন। এইভাবে প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির সাহায্যে পরিবেশের সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব। জনসংখ্যার একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সংরক্ষণ পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা গ্রহণ করবে। লিঙ্গ অনুপাতে সমতা রক্ষা করতে পারলে তা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা নেওয়ার মাধ্যমে পরিবেশের সম্পদকে রক্ষা করতে পারবে।
লিঙ্গ অনুপাত নির্ণয়ের গুরুত্ব বা তাৎপর্য
লিঙ্গ অনুপাত নির্ণয়ের মাধ্যমে কোনো স্থান তথা দেশ বা বিশ্বের নারী-পুরুষের সংখ্যার অনুপাত সম্পর্কে সম্যক ধারণা তৈরি হয়।
- কোনো একটি নির্দিষ্ট লিঙ্গের জনসংখ্যার বিস্তর ফারাক হলে তার কারণ নির্ণয়ে সচেষ্ট হওয়া যাবে।
- স্ত্রী-পুরুষ ছাড়াও তৃতীয় লিঙ্গ এবং রূপান্তরকামীদের সংখ্যা জানা যায়।
- সরকারি তরফে সকলের জন্য উন্নয়নের পরিকল্পনার বিভিন্ন রূপরেখা নির্ধারণ করা যায়।
- লিঙ্গ অনুপাত নির্ণয় কালে লিঙ্গভেদে শিক্ষার প্রসার কতখানি হয়েছে তার সম্বন্ধে জ্ঞাত হওয়া যায়।
- লিঙ্গভেদে উপার্জনকারীদের সংখ্যার অনুপাত নির্ধারণ করা যায়। ফলে নারীদের উপার্জনক্ষম হয়ে উঠতে উৎসাহিত করা যায়।
- সার্বিক সাক্ষরতার হার নির্ণয় করা যায়।
- পরিবারের প্রধান হিসেবে নারীরা কতটা ভূমিকা গ্রহণ করে তার ধারণা পাওয়া যায়।
- নারীদের ক্ষমতায়নের প্রয়োজনীয়তা বিচার করা হয়।
- তৃতীয় লিঙ্গ ও রূপান্তরকামীদের সমাজে সমান সুযোগদানের মাধ্যমে উন্নীত করে তোলার চেষ্টা করা হয়।
কর্মসূচি রূপায়ণ
কর্মসূচিটি রূপায়ণের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের নিজস্ব লোকালয়ে দশটি গৃহ নির্বাচন করা হয়। এই দশটি গৃহ থেকে সংগৃহীত তথ্যাবলি আমাদের সামগ্রিক চিত্র সম্বন্ধে একটি ধারণা দেবে। এর জন্য বিভিন্ন তথ্য সংবলিত একটি অভীক্ষাপত্র তৈরি করা হয়। এই তথ্যাবলি আমাদের বিশ্লেষণমূলক আলোচনায় সাহায্য করবে। এই তথ্যাবলি থেকে গৃহীত সামগ্রিক চিত্র আমাদের সমাজের বিভিন্ন দিক নির্দেশ করবে।
উপসংহার
লিঙ্গ অনুপাত পরিবেশ, তথা সমাজ তথা সমগ্র দেশের সর্বাঙ্গীণ বিভিন্ন পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া যায়। নারী-পুরুষের সংখ্যা থেকে শুরু করে তাদের শিক্ষার হার, তাদের উপার্জনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্বন্ধে জানতে পারা যায়। এই পরিস্থিতি সম্বন্ধে জ্ঞাত হয়ে উন্নয়নের রূপরেখা নির্ণয় করা যায়। বর্তমানে সমাজ বিভিন্ন দিক থেকে কতটা পিছিয়ে রয়েছে তা জেনে নিয়ে কতটা উন্নয়নের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়। জন্মহার, মৃত্যুহার, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি সবদিক বিচার করে একটি সর্বাঙ্গীণ সুন্দর সমাজ নির্মাণের লক্ষ্যে লিঙ্গ অনুপাত নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

